বিখ্যাত বিট্রিশ উদ্যোক্তা ও ডিজিটাল মার্কেটার Neil Patel কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো, কনটেন্ট মার্কেটিংয়ের একটা চমৎকার উদাহরণ দিন তো? পাতেল জবাব দিয়েছিলোঃ ”মার্ভেল কমিক্স।” এ নিয়ে তার ব্লগে একটা বিস্তারিত পোষ্টও আছে। শুধুমাত্র কমিকস বিক্রি করে (প্রিন্টেড ও পরবর্তীতে মুভি) মার্ভেল কোম্পানি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার কামিয়েছে! এবং ভবিৎষতেও কামাবে। হয়তো এক সময় তা ট্রিলিয়ন ডলারও ছাড়িয়ে যাবে।
কনটেন্ট মার্কেটিং নিয়ে আমাদের দেশের অনেকেরই পরিস্কার কোন ধারনা নাই। কনটেন্ট মার্কেটিং বলতে আমরা কি বুঝি? ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল মার্কেটিং, ফেসবুকে ভাইরাল পোষ্ট কিংবা ইউটিউবে ভাইরাল ভিডিও?
কনটেন্ট মার্কেটিং আসলে এর কোনটার ভেতরই সীমাবদ্ধ নয়। আসলে কনটেন্ট মার্কেটিং ইন্টারনেট আবিস্কারেও বহুত আগে থেকেই দোর্দন্ড প্রতাপে রাজত্ব করে যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। কারণ কনটেন্ট মার্কেটিং হল স্রেফ স্টোরি টেলিং। গল্প বলে যাওয়া। আর মানুষের কথা বলতে শেখা আর গল্প বলতে শেখা – প্রায় সমসাময়িক দক্ষতা।
কনটেন্ট মার্কেটিং প্রথম ব্যবহৃত হয় কত সালে, অনুমান করতে পারবেন? উত্তরটা জানলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে হবে। আমিও খেয়েছিলাম। আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে বিখ্যাত ব্রিটিশ সার্জন স্যার বেঞ্জামিন ফ্রাংকলিন প্রথম কনটেন্ট মার্কেটিং করেছিলেন। কিভাবে ও কেন করেছিলেন, সেই গল্প আরেকদিন বলবো। কনটেন্ট মার্কেটিং নিয়ে বিতং করে লেখা আমার এই পোষ্টের উদ্দেশ্য না।
এইবেলা বরং মার্ভেল কমিক্সে ফিরে যাই। ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি সারা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় তাদের গল্পের জন্য, যা পরবর্তীতে ওয়াল্ট ডিজনী কিনে নেয়। তো তারা কিসের গল্প বিক্রি করতো? তারা সুপারহিরোর গল্প বেচতো। কোম্পানি চালু করার কয়েক মাস পরেই লেগে গেলো ২য় বিশ্ব যুদ্ধ! তারা ভেবেছিলো, যুদ্ধের ডামাডোলে হয়তো পাততারি গুটাতে হবে। কিন্তু যুদ্ধের পরে তারা খেয়াল করে দেখলো, মানুষজন সুপার হিরোর গল্পগুলোকে আরো বেশী করে আপন করে নিচ্ছে।
এরপর একে একে তারা তৈরী করতে থাকে স্পাইডার ম্যান, এক্স-ম্যান, আয়রন ম্যান, থর, হাল্ক, উলভারেইন, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, ফ্যানটাসটিক ফোরের মত ডাকসাইটে সব শত শত সুপারহিরো ক্যারেকটার। এরা এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, অনেকে এই চরিত্রগুলো চিনলেও এগুলা যে মার্ভেলের বানানো, সেটা জানে না।
এভেনজার্স এন্ড গেইম তো দেখেন নাই এই এমন কেউ নাই মেবি। না দেখলে সত্বর দেখে নিন। হলিউডের ইতিহাসে এইরকম মারদাঙ্গা এবং এত ব্যবসাসফল সিনেমা (২.৮ বিলিয়ন ডলার) সিনেমা আর ২য় টি বানানো হয়নি। পৃথিবী জুড়ে তুমুল বিখ্যাত সিনেমা এই এভেনজার্স আর খলনায়ক ”থেনোস” কার সৃস্টি ছিলো? মার্ভেলের । ছোট বেলায় দেখে দেখে বড় হওয়া আমাদের প্রিয় সাই-ফাই সিরিজ স্টার্স ওয়ার্স কাদের তৈরী? মার্ভেলের তৈরী।

করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষজন এখন স্বেচ্ছায় ঘরবন্দী! আমি এই সময়টার নাম দিয়েছি ”করোনা-ক্রান্তিকাল”। এই সময়ই তো কমিকসে ডুবে যাবার মোক্ষম সুযোগ। তো এত বড় সুযোগ মার্ভেল কেন হাত ছাড়া করবে? ২৭ হাজারেরো বেশী কমিকস তারা ডিজিটালি আর্কাইভ করে সেটার সাবসক্রিপশন বিক্রি করছে এই করোনার ক্রান্তিকালে। সংখ্যাটা লক্ষ্য করুন! সা-তা-শ হাজার!! আবার প্রথম মাস পুরো ফ্রি! (আমিও সাবক্রাইব করেছি) সত্যি বলতে আমি ফেসবুকে গত ১৩ বছরে মার্ভেলের কোন বিজ্ঞাপন দেখেছি বলে মনে পড়ে না। তার মানে, মার্ভেল একেবারে হিসেব নিকেশ করেই এই সময়টাকে টার্গেট করেছে।
আর এটা নিয়ে লিখাই আদতে আমার পোষ্ট দেবার উদ্দেশ্য ছিলো।
মানুষজন এখন ঘরে বসে সময় কাটাচ্ছে। বাজার-সদাই-পাতি-খাবার-দাবার-পন্য এসব তো বটেই, ঘরে বসে কনটেন্টও এখন মানুষকে পৌছেঁ দিচ্ছি আমরা মার্কেটাররা। নেটফ্লিক্স, আইফ্লিক্স, হুলু আর প্রাইম ভিডিওর মত অন-ডিমান্ড স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলোর চাহিদা এই সময়ে হুহু করে বাড়ছে। বাড়ছে রকমারিতে বইয়ের অর্ডার।
আমার এক এফ-কসার্ম বন্ধু জানালো, তার স্টোর থেকে মনোপলি, লুডু, দাবা, এইসব ইনডোর বোর্ড গেমের অর্ডার গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। গুগল তাদের পেইড সেবাগুলো ফ্রি করে দিয়েছে। আজ আমাকেও মেইল দিলো। বিশাল এক লিষ্টি ধরিয়ে দিয়েছে দেখলাম। আপনি স্টুডেন্ড বা ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা যাই হোন না কেন, আপনাদের জন্য তাদের কোন না কোন দারুন একটা সেবা রয়েছে, এবং সেটা তারা বিনামূল্যে দিচ্ছে এই করোনা-ক্রান্তিলগ্নে। হয়তো ইতিমধ্যেই জানেন অনেকে, কেউ কেউ হয়তো ব্যবহার শুরুও করে দিয়েছেন! যারা জানেন না তাদের ভেতর কেউ আগ্রহী থাকলে জানাবেন, ফরওয়ার্ড করে দিবো।
শুধুই কি বিনোদনের জিনিসপাতি? না। এই ক্রান্তিলগে আরো একটা জিনিসের চাহিদাও তুংগে। সেটা হলো WFH (Work From Home)- এ সংক্রান্ত যা যা লাগে, যেমনঃ হাই স্পিড ব্যান্ডইউথ, ভিডিও কনফারেন্সিং সফটওয়্যার, অফিস মেনেজমেন্ট টুল, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুল, ডোমেইন-হোস্টিং সেবা (কেউ নিজের ব্যাক্তিগত ব্লগ লেখা শুরু করেছে কিংবা কেউ নিজের কনসালটেন্সি ওয়েব সাইট বানানো শুরু করেছে), ইত্যাদির চাহিদাও হুহু করে বাড়ছে কিন্তু!
আমি বেশ কিছুদিন হল অসুস্থ্য। গত ২ সপ্তাহে এই কারণেই গ্রুপে নতুন কোন লিখা দিতে পারিনি। ঘরবন্দী তো ভালোই, বরং রীতিমত কমপ্লিট বেড রেস্টে আছি। তাই বেশীখন টাইপ করতে পারি না, প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে। (পরের বার ভাবছি স্পিচ-টু-টেক্সট প্রযুক্তির সহায়তায় লিখালিখি করবো। অলরেডি টেষ্ট-রান করেছি গুগলের ভয়েস দিয়ে; বাংলা রতিচিহ্ন অর্থাৎ দাড়িঁ-কমার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে একেবারে। আর বেশ স্লো। এটুকু বাদ দিলে ফাস্টক্লাস আউটপুট পেয়েছি।) তাই ছোট করে লিখবো ভেবেছিলাম, কি করে যেন বড় হয়ে গেলো। এটা আমার পুরনো বদভ্যাস, তাই এখন থেকে ভাবছি লেখা বড় করে লিখার প্ল্যান করবো শুরুতেই, তাহলে দেখা যাবে ছোট হয়ে গেছে।
যা হোক, আমি এই পোষ্টে যা যা উল্লেখ করলাম, এগুলো বাদে আপনি ঠিক কোন কোন চাহিদাগুলোকে এই করোনা ক্রান্তিকালে গ্রাহকদের মাঝে দেখেছেন বলে মনে করতে পারেন?


